ভারতের বেশকিছু রাজ্যে চলতি মৌসুমে তুলা উৎপাদন কমেছে। এ কারণে দেশটিতে পণ্যটির মোট উৎপাদন পূর্বাভাস সংশোধন করেছে কটন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (সিএআই)। এর আগে দেশটিতে ৩ কোটি ৪ লাখ ২৫ হাজার বেল (প্রতি বেল ১৭০ কেজি) উৎপাদনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। সম্প্রতি তা সংশোধন করে ৩ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার বেলে নামিয়ে আনা হয়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
সিএআই তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ১১টি রাজ্যের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর পূর্বাভাসে সংশোধন আনা হয়েছে। তবে সরকারের গঠিত কমিটি অন কটন প্রডাকশন অ্যান্ড কনজাম্পশন (সিসিপিসি) ২ কোটি ৯৯ লাখ বেল উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে।
সিএআই সভাপতি অতুল গণাত্রা জানান, সংগঠনটি উত্তর ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থানে উৎপাদনের পূর্বাভাস আড়াই লাখ বেল কমিয়ে ২৮ লাখ বেল নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে গুজরাটের তুলা উৎপাদন পূর্বাভাস পাঁচ লাখ বেল কমিয়ে ৭৫ লাখ বেল করা হয়েছে। তবে তেলেঙ্গানার উৎপাদন পাঁচ লাখ বেল বেড়ে ৪৭ লাখ বেলে পৌঁছতে পারে। এ সময় অঞ্চলটি আবারো ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম তুলা উৎপাদনকারী রাজ্য হিসেবে অবস্থান ধরে রাখবে। এছাড়া চলতি মৌসুমে মহারাষ্ট্র ৯০ লাখ বেল তুলা উৎপাদন করে শীর্ষস্থান ধরে রাখবে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে গুজরাট।
অতুল গণাত্রা আরো জানান, বর্তমানে গিনার (তুলা পরিশোধনকারী) ও কটন করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার (সিসিআই) কাছে মোট ৮৫ লাখ ২৬ হাজার বেল তুলা মজুদ আছে। এর মধ্যে গিনারদের কাছে ১০ লাখ বেল তুলা চলতি মজুদ হিসেবে রয়েছে।
সিএআইয়ের পূর্বাভাস, চলতি মৌসুমে ন্যূনতম সহায়তা মূল্যের (এমএসপি) আওতায় ৯৫ লাখ থেকে এক কোটি বেল তুলা ক্রয় করা হতে পারে। সংস্থাটির ব্যালান্স শিটের তথ্যানুযায়ী, বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাহিদা বাড়ার কারণে চলতি মৌসুমে তুলার অভ্যন্তরীণ ব্যবহার দুই লাখ বেল বাড়তে পারে। তবে ছোট কারখানা ও বস্ত্রবহির্ভূত খাতে তুলার চাহিদা অপরিবর্তিত থাকবে।
তবে একই সময় রফতানি কমতে পারে। সিএআই চলতি মৌসুমে তুলার রফতানি পূর্বাভাস কমিয়ে ১৭ লাখ বেল নির্ধারণ করেছে। গত মৌসুমে ২৮ লাখ ৩৬ হাজার বেল রফতানি হয়েছিল। সিএআই সভাপতি জানান, চলতি মৌসুমে তুলা আমদানি বেড়ে ২৬ লাখ বেলে পৌঁছতে পারে। গত মৌসুমে ১৫ লাখ ২০ হাজার বেল আমদানি হয়েছিল। উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানি বৃদ্ধির এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মৌসুমের প্রথম চার মাসে এরই মধ্যে ১৬ লাখ বেল তুলা আমদানি হয়েছে বলে জানান তিনি। উৎপাদন কম থাকায় চলতি মৌসুমে সমাপনী মজুদ কমে ২৫ লাখ ৯৪ হাজার বেল হবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।